Academy

আফসার আলী একজন সফল কৃষক। গত কয়েক বছর সে কাদাযুক্ত জমিতে ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। কিন্তু এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং ফলন কমে যায়। আফসার আলী তার সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সাথে যোগাযোগ করে। সেখানে কৃষি কর্মকর্তা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

আফসার আলীর জমির মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।

নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-

i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত। 

ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে। 

iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম। 

iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম। 

V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়। 

vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি। 

vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না। 

viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।

 

1 year ago

কৃষিশিক্ষা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

1 মাঠ ফসল কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

যেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।

উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।

কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।

4 অভিজ্ঞ কৃষক কাকে বলে? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।

5 নিরপেক্ষ মাটি বলতে কী বোঝ? (অনুধাবন)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।

উদ্দীপকের রহিম ও রাশেদ ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থাৎ, দুজনেই কৃষি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

কৃষি হচ্ছে ফসল, গবাদিপশু, মাছ ও বনজ সম্পদ উৎপাদনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে কৃষির বিভিন্ন খাতের (ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও বন) সমন্বিত অবদান শতকরা ১৪.১০ ভাগ। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফসল খাতের অবদান অনস্বীকার্য। খাদ্য হিসেবে আমরা চাল, ডাল, গম, শাকসবজি প্রভৃতি গ্রহণ করে থাকি। পাট, তুলা ইত্যাদি বস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হলো বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ। উদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ, যেমন- কাগজ, কলম, পেন্সিল ইত্যাদি তৈরি হয় বাঁশ, আখের ছোবড়া, ধানের খড় প্রভৃতি থেকে। বাঁশ, খড়, কাঠ ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পাট, পাটজাত দ্রব্য, তামাক, চা, তুলা, মাছ, চিংড়ি প্রভৃতি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে।

অতএব বলা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতি তথা দেশের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণে কৃষিপেশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...